Main Menu

ফেরা হলো না তাদের

260811_112

মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত শহরে একটি আবাসিক ভবনের তিন তলার বসবাসরত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামের জুনেদ আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ পাঁচজনের মর্মান্তিকভাবে মারা যাওয়ার ঘটনায় দুই পরিবারের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় জুনেদের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের কান্দি গাও এবং নিহত রোকেয়া বেগমের বাপের বাড়ি মৌলভীবাজারের গুজররাই গ্রামে খবর পৌছামাত্র শুরু হয় কান্নার রোল। ছেলের বউ ও নাতি-নাতনির একসাথে অকাল মৃত্যুর ঘটনায় বৃদ্ধ মা মরিয়ম বেগম (৭০) জুনেদের বড় বোন মুসলিমা বেগম (৩৮), বড়মামা খিজির আহমদ খাঁন, পাশের বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল আজিদসহ স্বজনরা অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শোকাহত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে যান জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার শত শত গ্রামবাসী। গৃহকর্তা জুনেদ আহমদ বাসার বাইরে থাকায় বেঁচে যান। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় কুয়েত শহরের সালমিয়াত এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গেলে জুনেদ আহমেদের মামা খিজির আহমদ জানান, তার ভাগ্নে জুনেদ আহমদ স্ত্রী সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কুয়েতে বসবাস করছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জুনেদ স্বপরিবারে দেশে এসে আবার ২ ফেব্রুয়ারি কুয়েত ফিরে যান। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে স্বপরিবারে বাংলাদেশ আসার কথা ছিল। কিন্তু আর জীবিত ফিরতে পারলেন না পরিবারের লোকজন। সোমবার বিকালে জুনেদ আহমদ বাসার বাইরে থাকাকালে আকস্মিকভাবে এ ভবনের ৫ তলার একটি বাসায় এসির কম্প্রেসার বিষ্ফোরণ ঘটে ভবনে আগুন লেগে যায়।

ভয়ে ৫ তলা থেকে নিচে নামতে গিয়ে ৩ তলার বাসিন্দা জুনেদ আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৫), মেয়ে জামিলা আহমদ (১৫), ছেলে ইমাদ আহমদ (১২), মেয়ে নাবিলা আহমদ (৯) ও ছেলে ফাহাদ আহমদ (৫) ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ভবনের ভিতরেই মারা যান। ঘটনার খবর পেয়ে জুনেদ আহমদ ভবনে ফিরে একসাথে স্ত্রী সন্তানদের লাশ দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরে তিনি আবার বাসায় ফিরে আসেন। লাশ উদ্ধার করে কুয়েতের মোবারক আল কবির হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

নিহতের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামে একমাত্র বৃদ্ধা মা মরিয়ম বিবি (৭০) ছাড়া আর কেউ নেই। ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার রাতেই জুনেদের বড় বোন মুসলিমা বেগম (৪৮) স্বামীর বাড়ি থেকে এসে মায়ের পাশের এসে অবস্থান করছেন। নিহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগমের গ্রামের বাড়ী মৌলভীবাজার জেলা শহরের গোজারাই গ্রামে। সেখানে ও শোকের মাতম চলছে। পরিবারে আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠে।

জুনেদের স্ত্রী রোকেয়ার বড় ভাই জাকারিয়া আহমেদ জানান, ২০০০ সালে জুনেদের সাথে তার ছোট বোন রোকেয়ার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের ৬ মাস পর তার বোনকে নিয়ে জুনেদ কুয়েতে চলে যায়। তার ভাগিনা/ভাগিনি সবারই জন্ম হয়েছে কুয়েতে। আর জীবিত দেখার সুযোগ হলো না। তিনি জানান, কুয়েত হতে লাশ আনার জন্য জুনেদ আহমেদ চেষ্টা করছেন। কয়েক দিনের মধ্য দেশে লাশ আনা হতে পারে।

এদিকে কান্দিগাও গ্রামে শোকে কাতর জুনেদের বৃদ্ধ মা ময়িরম বেগম বাকচাপরিয়ে কান্নাকাটি করছেন। তিনি বাকরুদ্ধ অবস্থায় বলেন, আমার নাতি/নাতনিরা ইদানিং প্রায়ই ফোন করে দেশে আসার কথা বলতো, কিন্তু তারা দেশে আসতে পারল না, এই শোক আমি কেমন করে সইবো? আর কথা বলতে পারলেন না, বাকরুদ্ধ হয়ে যান।
ভাতিজা খালেদ মাসুদ (২০) জানান, দুর্ঘটনার ৩০ মিনিট আগেও তিনি ফোন করে বাড়ি ঘরের খোঁজখবর নেন। জুনেদ মিয়ার অপর দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই জুবের মিয়া স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ভাই সুয়েব স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার কান্দিগাঁও গ্রামে লোকে লোকারণ্য হয়ে শুরু হয় শোকের মাতম। সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহামম্মদ মাহমুদুল হক, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমানসহ জনপ্রতিনিধিসহ মুরুব্বিরা এ বাড়িতে এসে সমবেদনা জানান।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক সাথে মাসহ বাকি ৪ সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে। সমবেদনা জানাতে এসে তিনি নিজেও বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।

Share Button







ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT