Main Menu

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসাঃ শ্রমিক সাবধান

visa forud
গৌতম রায়, কুয়লালামপুর থেকেঃ মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। ১০ এজেন্সীর সিন্ডিকেট ছিল সব বিতর্কের উর্ধ্বে। ক্ষমতা আর অর্থে এত দাপট খুব কমই দেখেছি। যে সিন্ডিকেট দু’দেশের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন কলিং শুরু হবেই এবং সেটা এই সিন্ডিকেটের মধ্যেই হবে। তারপর কত দৌড় ঝাঁপ। কাদা ছোঁড়াছুড়ি। যেন একটি মাংসখন্ড নিয়ে প্রানীকূলের যুদ্ধ অবিরাম। কলিং ভিসা নিয়ে যারাই আমার সামনে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা বিশ্লেষন দেখিয়েছেন তাদের সবাইকে শুধু জবাব দিয়েছি একটাই- যে যাই বলুক ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালু হবে না। যখন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও বলেছিলেন- আগামী সপ্তাহেই খুলছে মায়ায়েশিয়ার শ্রমবাজার। ঠিক তখনই আমি বলেছি- অসম্ভব, খুলবে না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অনেকে অনেক কিছু ভাবেন। কিন্তু ভবিষ্যৎ বানী আমারটাই মিলে যায়। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে প্রথম দৈনিক পত্রিকায় লিখেছিলাম- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক অপরিহার্য্য। সেদিন এই মালয়েশিয়াকে অনেকেই চিনত না। তারপর আলোচনা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ১৯৯৩ সালে চালু হয় বাজার।
আর এবার যখন অনেকেই সিন্ডিকেট নিয়ে কলিং ভিসা নিয়ে পাগল হয়ে পড়েছেন তখন পাগলের কাজ দেখে হাসছিলাম। যেখানে প্রায় ১২০০ রিক্রুটিং লাইসেন্স রয়েছে তাদের মধ্যে কেউ খাবে তো কেউ খাবে না কি করে হয়। বলেছিলাম, কলিং বন্ধ করে দেয়া সামান্য ব্যাপার আদালতে একটা আপিল করলেই খেল খতম। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। আপাতত সব ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত থেমে গেছে- মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা।
গরীবের রক্ত খেতে বড্ড মজা, গরীব আবার মানুষ নাকি? এই খেদোক্তি বার বার আমার মনে জাগে। কারন, লোক দরকার মালয়েশিয়ার। শ্রমিক যাবে সেখানে। গায়ে গতরে খেঁটে, ডাল ভাত আলু সিদ্ধ খেয়ে টাকা পাঠাবে দেশে। এখন সে শ্রমিক কার আগে কে পাঠাবে, কে কতভাবে শ্রমিক শোষন করে সমাজে শত কোটি টাকা কামাবে তা নিয়ে চলছে কামড়া কামড়ি। গরীবের রক্ত নিয়ে আগেই যখন কাড়াকাড়ি হচ্ছে তখন সামনে যে কি আছে ভাবতেই বুকটা কেঁপে উঠে। আর দেশে তো গরু ছাগলের অভাব নেই। যেগুলো মনে মনে ঠিক করে রেখেছে ৫ লাখ টাকা হলেও দৌড় দিবে। মালয়েশিয়া থেকে ভালো অবস্থানে থেকে বর্তমানে কোন শ্রমিক ১ হাজার রিঙ্গিত পাঠাতে পারলেও সে পাচ্ছে ১৭/১৮ হাজার টাকা। কতজন শ্রমিক এ দেশ থেকে এখন প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে পারছে? তবু মালয়েশিয়ার নাম শুনলেই চন্দ্র তারা সূর্য্য এসে বাংলার মানুষের স্বপ্নে খেলা করে।
মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হলে যে আগামীতে লাখ লাখ শ্রমিকের সর্বনাশ হবে সে আশংকাটা ‘বায়রা’র কর্মকান্ডেই ভেসে উঠছে। বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকেই ভাবতে হবে। কারন, বাংলাদেশে চাটুকারের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েছে অনেক। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানী কোন সেবা নয়, ব্যবসা নয়। গরীবের রক্ত মাংস নিয়ে একদল লম্পটের কাড়াকাড়ি, কামড়াকামড়ি। যেখানে মানুষ হবে বলির পাঠা। আর ধনকুবেরের খাতায় নাম উঠবে অনেকের। মানুষ সাবধান। গরীব আর বিত্তবানের টার্গেট মালয়েশিয়া। বসে নেই মালয়েশিয়ার কসাইরাও। চাপাতিতে শান দিচ্ছে তারাও। এলেই কাটাকাটির কাজটা শুরু করবে। কিন্তু বাংলার মানুষের ঘুম কি ভাঙ্গবেনা কোনদিন?
লেখক: মালয়েশিয়া প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক, মালয়েশিয়া থেকে প্রকাশিত প্রবাসীকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক।
Share Button





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*



ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT