Main Menu

প্রবাসী শিশুদের ভাষার বিড়ম্বনা

KJ

গোলাম সাদত জুয়েল: প্রবাসের নিউজের পক্ষ থেকে দীর্ঘ ৮ মাসের গবেষনায় বিশ্বের ১৫০ টি দেশের ছোট বড় ২৫০ টি শহরে প্রবাসীদের অস্তিত্ব খুজে পাই , প্রবাসীদের সংখ্যা নিরুপন করা যায় প্রায় সোয়া কোটি । এই সোয়া কোটি প্রবাসীর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা কম করে হলেও ৪০ লাখের কম বেশী ধরে নেয়া যায় । প্রবাসী পরিবারগুলোর শিশুরা আমাদের প্রবাসে কোথাও দ্বিতীয় কোথাও তৃতীয় প্রজন্ম । সেই সব প্র্সাবী শিশুরা ভাষা নিয়ে নানা দোদুল্যমান অবস্থায় । আমেরিকা -ইংলান্ড-কানাডায় ইংরেজী প্রধান ভাষা হলেও মধ্যপ্রাচ্য সহ নানান দেশে ইংরেজীর পাশাপাশি নানা ভাষা শিশুদের শিখতে হয় । স্কুলে বা তাদের নানা জাগতিক চলাফেরায় । তাহলে বাংলা ভাষার কি হবে ? বাংলা ভাষা নিয়ে চলছে বিরাট বিপত্তি । বাসা বাড়ীতে বাবা মারা বাংলা বললেও শিশুরা তা বুঝতে পারলেও তারা উত্তর দিচেছ ইংরেজীতে । অভিভাবকরা সন্তানদের ইংরেজী উত্তরটাকে গ্রহন করছেন । বাংলা উপেক্ষিত থেকে যাচেছ । সব জায়গায় ও রাত দিন কার্টুনে অভ্যস্থ শিশুরা ইংরেজীকে সবচেয়ে সহজ ভেবে অবলিলায় ইংরেজী বলছে অভিভাবকরাও প্রেসার দেন না । এর পরিনতিতে তারা বাংলাকে খুব একটা আমলে নিচেছ না । কথা বলতে পারছেনা বাংলায় লেখা তো দুরের কথা । পাশাপাশি তাদের আরবি পড়তে হচেছ , যারা ইসলামী স্কুলে পড়ে তাদের আরবী লেখা পড়া ও শব্দ বানান শিখতে হছেচ । আবার যে সব অভিভাবক স্বইচছায় তাদের বাচছাদের সাথে বাংলায় কথা বলে শেখানোর চেষ্টা করেন তারা  কিছুটা শেখে ভাল বাংলা বলতেও পারে ।  আবার মজার ব্যাপার হল বাংলা যারা বলছে তারা নানা আঞ্চলিক ভাষা শিখছে , যেমন সিলেটের প্রবাসী শিশুরা সিলেটি আবার নোয়াখালির শিশুরা নোয়াখালির ভাষায় বাসা বাড়ীতে কথা বলছে । কিন্তু যখন তার ঢাকার কারও সাথে কথা বলে তখন তার শুদ্ব বলতে পারে না বা বুঝতে পারে না তারা ধরে নেয় শুদ্ব বাংলাটা অন্য কোন ভাষা ।  আবার আমেরিকার দ্বিতীয় ভাষা ষ্পেনিশ স্কুলে স্পেনিশ শেখায় তাদের শিখতে হয় ষ্পেনিশ । তা্ই আমাদের বা আমার বাচছারা ইংরেজী ভাষা , আরবী ভাষা ষ্পেনিশ ভাষা , সিলেটি ভাষা ও শুদ্ব বাংলা সব কিছু মিলিয়ে তারা তাল গোল পাকিয়ে ফেলে ।

                       এ সমস্যাটা শুধু বাংলাদেশী বাচ্চাদের নয় , আমেরিকায় বা প্রবাসের সকল বাচছাদের সমস্যা । যারা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আরবী ভাষা শিখতেই হবে । ইটালী , ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া,চায়না, সা্উথ আফ্রিকা, মালদ্বীপ, জাপান সহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে বসবাস রত বাংলাদেশী বাচছাদের  এ সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় । স্পেনিশি রা তাদের বাসা বাড়ীতে স্পেনিশ কথা বলে তাদের শিশুদের তাদের ভাষা শেখা বা তা ধরে রাখার চেষ্টা করে,চায়নিজ রা তাদের শিশুদের সাথে চায়নিজ কথা বলে , পাকিস্তানীরা তাদের শিশুদের সাথে উর্দু কথা বলে থাকেন, মরোক্কানরা তাদের শিশুদের সাথে এরাবীক ভাষা য় কথা বলে থাকে । কিন্তু আমাদের বাংলাদেশী পরিবারগুলোয় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র । তারা বাচছা দের সাথে অবলিলায় ইংরেজী কথা বলে যান । এ বিষয়টা অনেকটা জোর করে করতে হয় । আমার চারটি বাচছা আমার ১২ বছরের বড় মেয়ে ভাল বাংলা বলতে পারে । আমার ৫ ও ৪ বছরের দুটো ছেলে তারা সব সময় চায় আমরা ইংরেজী তে তাদের সাথে কথা বলি । তারা কার্টুন দেখে ভাল ইংরেজী শিখেছে । আমি ও আমার স্ত্রী তাদেরকে জোর করে বাংলা শেখানোরে চেষ্টা করছি , তারা ইংরেজীতে প্রশ্ন করলে আমরা বাংলায় উত্তর দেই । তাদের নানা ভাবে প্রলোভন দিয়ে বাংলা শেখানোর চেষ্টা করি । সারা দিন রাত আমাদের বলতে হয়  স্পীক বাংলা ,স্পীক বাংলা । বাসায় -গাড়ীতে আমাদের প্রানান্ত চেষ্টা এ কোমল বয়সে তাদের বাংলা শেখাতেই হবে । বাসায় আমরা সবাই বাংলা বলি , বাংলা টিভি বাংলা  নাটক, বাংলা ছবি চলে । তারা শুদ্ব ও সিলেটি নিয়ে তাদের দ্বীধার শেষ নেই তারপরও চেষ্টা করতে হয় । খুব সহজ একটা ইংরেজী আমরা সারা জীবন বলি তা হল “সরি “ তারা শিখেছে দু:খিত তারা সারা দিন কিছু ভুল হলেই বলে দু:খিত, আমরা খুব উপভোগ করি । এই সরি ইংরেজী শব্দটা যে ইংরেজী তা আমরা ভুলে গেছি । আমরা বলি গুড বয় আমার ছোট দুটো ছেলে বলে “ভাল ছেলে“ , তুমি দুষ্টামী করছ বললে্ই বলে আমি ভাল ছেলে । নতুন প্রজন্ম কে প্রবাসে বাংলা শেখানো ও বলানো যে কতটা কঠিন তা ভুক্তভোগীরাই জানেন । আর যদি অভিভাবকরা একটু উদাসীন হন তাহলে  তো কথাই নেই । আমার ২৩ বছরের ভাতিজীকে আমি বাংলা লিখতে ও পড়তে শিখিয়েছিলাম , সে তা বেমালুম ভুলে গেছে । কোন পাটিতে গেলে যখন বিভিন্ন জেলার প্রবাসী মহিলারা শুদ্ধ বা ভিন্ন জেলার ভাষায় কথা বলেন, সে কিছু বুঝতে পারে না বলে তারা তো বাংলায় কথা বলে না । আমি বুজি না , আসলে শুদ্ব বাংলা যা নাটক সিনেমায় বলে সে কথা নতুন প্রজন্ম বুঝে না । কারন তারা বাসায় নানা আঞ্চলিক কথা শিখেছে ।

           আমার মেয়ে ৬ষ্ট  শ্রেনীতে ও ছেলে পড়ে কিন্টারগাডেনে  ইসলামী স্কুলে । তাদের শেখানো হচেছ আরবী ভাষা, প্রতিদিন তারা নানান আরবী শব্দ শিখছে । তারা বাংলা ,ইংরেজী , আরবী  তিনটি ভাষা নিয়ে হিমশীম খাচেছ । তাদের বেশী সমস্যা হল তারা কথায় কথায় ইংরেজী বলে তাদের অনেকটা শাসন করে বাংলা কথা বলার চেষ্টা করাতে হয় । অনেক সময় প্রবাসী অভিভাবকরা তাদের বাংলা বলার তাগিদ দেন না ফলে তারা বাংলা বলতে চায় না । অথচ অন্য দেশের প্রবাসী শিশুরা তাদের অভিভাবকদের প্রেসারে পড়ে তারা তাদের মাতৃভাষায় কথা বলে ।

           প্রবাসের দ্বিতীয় প্রজন্ম অভিভাবক হয়ে গেছে , অনেকে বিয়ে শাদি করে সংসারী তাদের সন্তানরাতো বাংলা বলবেই না । কারন তাদের পিতামাতা ও ভাল বাংলা বলতে পারে না । সম্প্রতি দেরীতে হলেও মহামান্য হাইকোট বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগের ৫ কেজি ওজনের বই বহন নিষিদ্ব করেছে । কোমলমতি শিশুদের ভোরবেলা ঘুম থেকে তুলে ৫/৭ কেজি ওজনের বইয়ের ব্যাগ বহন করে স্কুলে ছুটতে হয় । এ জগন্য কাজটা চলে আসছিল দীঘদিন ,দেরীতে হলেও তা নিরসনের যে  উদ্যেগ হাইকোট নিয়েছে তা প্রশংসনীয় । বিদেশে স্কুলের বই পত্র বেশীর ভাগ শ্রেনী কক্ষেই থাকে । তারা হাতে গোনা দু একটা বহন করে মাত্র । আর স্কুলের সময়সুচী হল পৌনে পাচ দিন , হাসি খেলে শিশুরা বিদ্যাজন করছে । তাদের সব কিছু শেখানো হচেছ বন্ধুত্বসুলভ আচরনে । আমরাও চাই বাংলাদেশের ক্ষুদে শিক্ষাথীরা বিদ্যাজন করুক হাসি খেলে ।  আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন পড়ালেখাকে বোঝা মনে না করে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে । দেশের অনেক স্কুলে বাচচার ইংরেজী বলছে লিখছে , কিন্তু তারা যেন কখনও্ আমাদের মাতৃভাষাকে অবহেলা না করে । প্রবাসে হোক আর দেশেই হোক শিশুরা যেন অভিভাবকদের কড়া নজরদারিতে বাংলাভাষাকে রপ্ত করতে পারে । আমাদের আন্তজাতিক ভাষা বাংলা কে যেন কখনও কোথাও আমরা করুনা হিসাবে না দেখি । ইংরেজী জানা জরুরী তবে তা যেন বাংলাকে অবহেলা না করে ।

     লেখকঃকলামিষ্ট,সম্পাদক : প্রবাসের নিউজ ডট কম ( আমেরিকা )

Share Button





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*



ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT