Main Menu

৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি দাবি ব্যবসায়ীদের, আহাজারিতে ভারি গুলশান,

DCC

ডিসিসি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে গেছে রাজধানির গুলশান-১। ডিসিসি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে ২৩৪টি দোকান ও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কেটের একাংশ। ধারণা হচ্ছে, এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালামাল। মধ্যরাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২২ ইউনিট ও বাংলাদেশ নৌবাহিনির ২টি ইউনিট। আগুন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশনৌবাহিনির সাব অফিসার সিরাজুল হক।

তিনি জানান, ভোর ৪টা হতে ১০ জন সদস্য নিয়ে কাজ করছি। আগুনের শিখা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ধোয়া এখনো অব্যাহত।

সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে আহাজারি করছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, মার্কেট হতে উচ্ছেদ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এই মার্কেটে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যেত। বেশিরভাগ বিদেশি দামি ও উন্নত মানের মালামাল বিক্রি হতো বলেও জানান তারা।

ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী জহুরুল বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস ঠিক মতো কাজ করছে না। তারা বলছেন তাদের ১৯টি ইউনিট কাজ করছে; কিন্তু আপনারা দেখেন মাত্র ৫টির মতো ইউনিট রয়েছে। তারা সবাই কাজ করলে গুলশান ভেসে যেত। মার্কেটের গেট হলো ১৬টা তাহলে কেন তারা আধা ঘন্টার মধ্যে কিছু করতে পারলো না। এর আগেও এই মার্কেটে ১০বার আগুন লেগেছিল।’

আরেক ব্যবসায়ী রাসেল কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ। এখন আমি নিঃস্ব।’

সিরাজুল (জেনি এন্টার প্রাইজ) বলেন, ‘পরিকল্পিত না হলে কিভাবে আগুন লাগার ৩০ মিনিটের মধ্যে ভবন ধ্বসে যায়। আমার ১০ কোটি টাকার মালামাল ছিল; তা শেষ ‘

ক্ষুতিগ্রস্থ ইউসুফ জানান, ‘আমার ৫টা দোকান ছিল। গতকালও ২০ লাক্ষ টাকার মালামাল এনেছি। আমার ১০ কোটি টাকা শেষ। এখন আমি কি করবো? কি খাবো? অনেক ব্যবসায়ীর কাছ হতে বাকিতে মালামাল এনেছি; এখন তা কিভাবে শোধ করবো।’

দেলোয়ার হোসেন (মালেক এন্ড সন্স) বলেন, ‘আমার খেলনার দোকান। ৩টা সন্তান আছে। এখন যে তাদের স্কুলে পাঠাবো সেই টাকাও নেই। দুইদিন আগে চকবাজার হতে মাল কিনেছি। গ্রামের জমি বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করতে হবে। ৩২ বছর ধরে আমি ব্যবসা করছি।’

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের আইজি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আগুন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালাচ্ছি। দোকানে ধায্য পদার্থ জাতীয় মালামাল থাকায় আগুন ছড়িয়ে পরেছে। ফায়ার সার্ভিস তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ‘

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে জাতীয় মানবাধীকার কমিশনার বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি কমিটি করতে সরকারের প্রতি আমার আহ্বান। ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড হলে এর আলোকে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। আগুন লাগলে দেখা যায় বেশির ভাগই বস্তিরলোক, সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়িরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকেন।’

নাশকতা মূলকভাবে ঘটানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে গুলশান দক্ষিন সুপার মার্কেটের চেয়ারম্যান গোলাম কাদের বলেন, ‘আমরা সরকারি লোক আমাদের মুখে সব কথা মানায় না। কিভাবে কি হয়েছে জানিনা। আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।’

Share Button





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*



ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT