Main Menu

এখন ‘লাশের নদী’ বুড়িগঙ্গা

buriganga_poriborton-1

নদীতে পচাগলা লাশ ভাসতে দেখার পরও কেউ সেগুলো ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখছে না নানা আইনি জটিলতার ভয়ে। সাধারণ মানুষ বলছে, এরকম লাশ তো প্রায়শই দেখা যায়। দেখতে কষ্ট হয়। প্রশাসনকে জানাতেও ভয় লাগে। এভাবে কত লাশই তো চোখের সামনে দিয়ে ভেসে চলে যায়। তবে নদীতে ভাসমান এই লাশ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। প্রতিমাসে বুড়িগঙ্গার পানিতে লাশ ভেসে উঠছে। যেগুলোর বেশিরভাগরই বেওয়ারিশ থেকে যাচ্ছে। কূল-কিনারা হচ্ছে না তাদের পরিচয়ের।

বুড়িগঙ্গার আশেপাশের চারটি থানায় সরেজমিনে অনুসন্ধানের পর বেরিয়ে এসেছে এ সব তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৬ মাসে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসমান আবস্থায় পাওয়া গেছে ২৫ লাশ। এগুলোর অধিকাংশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ পাওয়ার পর শুধুমাত্র একটি মামলায়-ই থমকে থাকে সবকিছু।

রাজধানীর বছিলা-ওয়াসপুর ঘাটের মাঝি ছগির মিয়া বলেন, ‘মাঝে মাঝেই তো লাশ ভেসে যায়। অধিকাংশই তো পচা গলা। চেনার উপায় থাকে না। তিনি আাক্ষেপ করে বলেন, ‘কার লাশ? কোন মায়ের বুক খালি হয়? এগুলো দেখে খুব কষ্ট লাগে। আবার ভয়ও লাগে।’

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ১৫টি, কেরানীগঞ্জ থানায় ৩টি, সাভার থানায় ৪টি, হাজারীবাগ থানায় তিনটিসহ মোট ২৫টি ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশেরই পরিচয় পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে সেগুলোকে বেওয়ারিশ হিসেবেই দাফন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হক বলেন, ‘নদীতে ভাসমান লাশ! এটা তো দুঃখজনক। কীভাবে কারা কোথা থেকে কী করেছে সেটা তো আমি এ মূহূর্তে বলতে পারছি না। এরকম কোনো বিষয় তো আমার জানা নেই। তবে তাদের মানবাধিকার তো অবশ্যই লঙ্ঘন হয়েছে। সে কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। কোথা থেকে এগুলো এলো আমাদের কাছে তো এমন অভিযোগ নেই। অভিযোগ থাকলে আমরা তদন্ত করে দেখতাম। এগুলোর সাথে অপহরণ বা গুমের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না আমার জানা নেই। তদন্ত করে দেখতে হবে।’

নদীতে ভাসমান এ লাশগুলোর সঙ্গে বিগত ‍দিনের অপহরণ বা গুমের ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন বলেন, ‘বিগত দিনে এরকম ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা দেখেছি। তিন চার বছর আগে যাদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে; তাদের পরিবার দাবি করেছে। তাদের কারো কারো ভাসমান লাশ পাওয়া গেছে। তবে সব ঘটনা যে ওইরকম সেটা বলা যাবে না। তবে ধারণা করা হয় এ সব লাশ উদ্ধারের পেছনে ‍গুম-অপহরণের ঘটনার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এ সব স্বাভাবিক কোনো ঘটনা না।’

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে এতো লাশ, অবশ্যই স্বাভাবিক ঘটনা না। বুড়িগঙ্গা নদীটাতো আমাদের অনেক বড় এলাকা। এই নদীটাকে আমরা সবাই ডাম্পিং জোন হিসেবে ব্যবহার করছি। যে যেভাবে পারছি ব্যবহার করছি, মানুষ হত্যা করে নদীতে ফেলে দিচ্ছি। লাশগুলো ছয়/৭দিন পর যখন ভাসে তখন আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। পচাগলা লাশ। এগুলোর কোনটা হত্যা কোনটা দুর্ঘটনা। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে বুড়িগঙ্গায় লাশ পাওয়া যায়।

হাজারীবাগ থানার ওসি মীর আলিমুজ্জামান বলেন, ‘নদীতে ভাসমান লাশ তো কেরানীগঞ্জে বেশি। আমাদের শুধু একটা লাইন আছে বুড়িগঙ্গার। আমরাও মাঝে মাঝে পাই এমন লাশ। বীভৎস লাশ। এগুলোকে চিহ্নিত করা কষ্টকর হয়। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাই। সঠিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নিই। তবে লাশ উদ্ধারের প্রত্যেক ঘটনায়ই মামলা হয়।’

Share Button







ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT