Main Menu

আবার তোরা মানুষ হ

Lina
আফরিন জামান লীনা: নাসির উদ্দিন বাচ্চু— স্যার, আপনি হয়ত ভুলে গেছেন স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে বঙ্গবন্ধু রক্ষীবাহিনী গড়ে ছিলেন আপনাদের মতই কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। কেন করেছিলেন জানেন তো? কারন এখানেও আপনার মত কিছু মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধের পরে অস্ত্র জমা না দিয়ে সেই অস্ত্র নিয়ে লুটতরাজ সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। আর সেই সকল বখে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ করার জন্যই রক্ষীবাহিনীর জন্ম হয়েছিল। অথছ এই রক্ষীবাহিনীর হাতেও অনেক নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা অত্যাচারিত হয়েছিল। যার জলন্ত প্রমান আমার বাবা। যে কষ্টে কখনই তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতির সার্টিফিকেট নেন নাই। আমার বাবা বলতেন যুদ্ধ করেছি দেশকে দেবার জন্য নেওয়ার জন্য নয়। আমি আমার বাবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোন দিন দেখি নাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি  তার ভালবাসার এতটুকুন কমতি ছিল। যেই আদর্শের পথে আজ আমরা চলতেছি। রক্ষীবাহিনীর সেই সেচ্ছাচারিতার  জন্য খুব বেশীদিন সেই বাহিনীর স্থায়িত্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধু নিজেও তখন তাদেরকে চোর বলেছেন। সেখানে খাঁন আতাউর রহমান আবার তোরা মানুষ হ ছবি বানিয়ে রাজাকার হয়ে গেলেন? বাহ !!!! চমৎকারতো । যে ছবি ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মুক্তি দিয়ে সম্মাননা জিতে নিয়ে গেছে সেই ছবির জন্মদাতাকে আপনি বলছেন “আরে তুই আগে মানুষ হ ” । কি শেখাচ্ছেন  আপনারা আমাদেরকে? এই ভাষা? অস্ত্রের মুখে জোর করে একটা কাগজে সই নেওয়াতে যদি রাজাকার হয়ে যায় তাহলে সেই ডকুমেন্টারিতে সই করা বাকি ৫৪ জন কি ছিল? সেই সিগনেচার করা ডকুমেন্টারির অনেককেই পরবর্তিতে হত্যা করা হয়। যারা বুদ্ধিজীবী হিসাবে আমাদের কাছে স্বীকৃত। আর এই স্বীকৃতি বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন। সেই সময় খাঁন আতাকে মারা হলে তিনিও বুদ্ধিজীবী তালিকাতেই যেতেন। আপনি কোথাকার বিচারক যে এক নিমিশেই তাকে উল্টাইয়া দিলেন? সেই ডকুমেন্টারিতে বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের সই ছিল। অথছ সাবিনা ইয়াসমিন বাংলদেশের দেশাত্মকবোধক গান যত দরদ দিয়ে গায় এই দেশের অন্য কোন শিল্পি তা পারবে কিনা জানিনা। সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠের “যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই” গানটা আজো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের কাঁদায়। ঐ ডকুমেন্টারিতে শাহনাজ রহমতুল্লার সই ছিল। শাহনাজ রহমতুল্লার ভাই জাফর ইকবাল একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আপনার মত সেও অস্ত্র হাতেই যুদ্ধ করেছেন। এই শাহনাজ রহমতুল্লার দেশাত্মবোধক গান ও সাবিনা ইয়াসমিনের মতই জনপ্রিয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী ছিল। আপনাদের মত মুক্তিযোদ্ধা আর কিছু স্বাধীনতা বিরোধীরা ছাড়া সবাই সাধারন মানুষ ছিল। তারাও তো অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেনি। তাই বলে কি তারা সবাই স্বাধীনতা বিরোধী ছিল? তাদেরকে আপনি কি বলবেন? ১৪ই ডিসেম্বরে যে সকল বুদ্ধিজীবীদের মারা হয় তারা সবাই পাকিস্থান সরকারের বেতন ভুক্ত কর্মচারি ছিল। তাই বলে তারা কি আমাদের জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান নয়? তাদেরকে কি বলবেন আপনি?যারা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পালিয়ে গিয়েছিল ইন্ডিয়াতে তাদেরকে কই বলবেন? নায়ক রাজ রাজ্জাক অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন নাই। অথছ তার মৃত্যুতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির দলের সরকার যে সম্মান দিয়েছে তা হয়ত আর দশজন পায়না। নায়ক রাজ্জাককে কি বলবেন? ঐ সময়ে যারা স্বাধীন বাংলা বেতারে কাজ করেছে অথছ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেনি তাদেরকে আপনি কি বলবনে? আপনি যখন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছেন তখন আপনার মতই কেউ তার পরিবারের কোন মুক্তিযোদ্ধা বা তার গ্রামকে বাঁচানোর জন্য রাজাকার বাহিনীতে নাম দিয়েছেন। তাদের থেকে ইনফরমেশন নিয়ে অনেক পাকি ঘাটি  ধবংশ করেছে আপনাদের মতই কোন এক সেক্টর। এই সমস্ত রাজাকারদের জন্যই ছিল বঙ্গবন্ধুর সাধারন ক্ষমা। আর যারা সেই ক্ষমার তালিকায় ছিলনা তারাই আজ বিচারের কাঠ গড়ায়।সেই সকল নিবন্ধনধারি রাজাকারদের কোন ক্যাটাগরিতে খাঁন আতা পড়েন? উনি কোথায় পাকিস্থানিদের সাহায্য করে বাঙ্গালী নিধন করেছেন? কতজন মা বোনকে পাকিস্থানের হাতে তুলে দিয়ে তাদের সম্ভ্রম নষ্ট করিয়েছেন? কতগুলি গ্রামে আগুন লাগিয়েছেন? কতগুলি এলাকায় ডাকাতি করেছেন? কতজন বেধর্মিকে অত্যাচার করেছেন? কতজনকে জোর পুর্বক ধর্মান্তরিত করেছেন? পাকিস্থানিদের পক্ষে কোথায় সভা সেমিনার করেছেন? কোন মঞ্চে উঠে বঙ্গবন্ধুকে বা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করেছেন? আপনি যখন একজন মানুষকে এত জঘন্য গালি দিলেন তখন সেই শব্দ চয়নের প্রমান তো আপনাকেই দিতে হবে। আপনি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বলে তো দেশের সকল সম্মাননার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে যান নাই। যে নারী আপনার জন্য রান্না করে খাবার নিয়ে যাওয়ার অপরাধে ধর্ষিত হয়েছিল সেও তো বীরঙ্গনা। খাঁন আতাউর রহমান যদি কিছু বখে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাকে আবার তোরা মানুষ হ বলে রাজাকার হতে পারে অথবা অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে একটা ডকুমেন্টারিতে সই করার জন্যই রাজাকার হয়ে থাকে, তাহলে আপনি মুক্তিযোদ্ধা—আপনি  আমাদের জবাব দেন ——-আপনাদের মতই অস্ত্র হাতে করা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কেন বঙ্গবন্ধুকে মরতে হল? যেখানে পাকিস্থান তার বুকে গুলি করার সাহস করেনি, কোন রাজাকার পারেনি, পাকিস্থান  হানাদার বাহিনী তার পুরো পরিবারকে গৃহবন্দি করার পরেও কারো গায়ে একটা ফুলের টোকাও দেয়নি, সেখানে আপনাদের মতই কোন মুক্তিযোদ্ধা তার পুরো পরিবারকে তারই চোখের সামনে শেষ করে দেওয়ার সাহস করেছে। জবাব দিন কেন করেছে? গৃহ বন্দি অবস্থায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জন্ম দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়কে। রাসেল কিন্তু তখনো শিশু ছিল। অথছ আপনার মত অস্ত্র হাতে করা বীর উত্তমরাই গর্ভবতী মাকে হত্যা করেছে, শিশু রাসেলকে হত্যা করেছে। আপনি জবাব দেন কেন করেছিল? যেহেতু কাজটা আপনার মতই অস্ত্র হাতে করা মুক্তিযোদ্ধারা করেছে তাই জবাব আপনাকেই দিতে হবে। এই জবাব তো নীতিগত ভাবে কোন রাজাকার দিবেনা।আর আমরাও তাদের কাছে জবাব চাইতে পারব না। কারন জাতির পিতার বুকে গুলি তো আপনাদের মত জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানরাই চালিয়েছিল। বলুন এরা কি ছিল? যদি সুষ্ঠ জবাব দিতে নাই পারেন, যদি বলেন ওরা পথভ্রষ্ট কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছিল, তাহলে খাঁন আতাউর রহমান সেই কিছু সংখ্যক ক্ষমতালোভিদের আবার তোরা মানুষ হ বলে কি অন্যায় করেছিলেন?

কাজী নজরুল ইসলাম পাকিস্তান জন্মের আগ থেকেই অসুস্থ ছিলেন। ১৯৪২ সাল থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।উনার আন্দলন মুলত ব্রিটিশ ঔপিনিবেশিক থেকে এই উপমহাদেশকে মুক্ত করা পর্যন্ত এসে থেমে গিয়েছিল। বাংলাদেশ নামক রাস্ট্র জন্ম নেয়ার আন্দলনে সে জড়িত থাকতে পারেন নাই। অথছ এই কাজী নজরুলের লেখা “চির উন্নত মম শির” বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর থিম হিসাবে পরিচিত। তারই লেখা চল চল চল চল বাংলাদেশের রন সংগীত। এই কাজী নজরুলকেই বঙ্গবন্ধু এদেশের জাতীয় কবি করে গেছেন। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কোন ভূমিকা রাখেন নাই। এখন আপনি তাকে কি বলবেন?
খান আতাউর রহমান ——- যিনি খান আতা নামে বহুল পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, কাহিনীকার, এবং প্রযোজক। চলচ্চিত্রকার এহতেশাম পরিচালিত এ দেশ তোমার আমার তার অভিনীত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র। নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা (১৯৬৭) এবং জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। সুজন সখী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে ১ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। পরে এখনো অনেক রাত (১৯৯৭) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এই ১৯৭৫ এবং ১৯৯৭ দুই সময়েই কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ছিল যে দলকে এক কথায় বলা হয় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। এই খান আতাই জন্ম দিয়েছিলেন জহির রায়হানের মত পরিচালককে। এই খান আতাই প্রান দিয়েছেন আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানকে। এই গানের কথায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি ২১ তারিখে সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ফুটে উঠেছে। সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন। প্রথমে আবদুল লতিফ গানটি সুরারোপ করেন। তবে পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রে  খান আতার পরিচালনায় গানটি ব্যবহার করেন। এই ছবির এ খাঁচা ভাঙ্গব আমি কেমন করে ( জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত গান) খান আতার লেখা এবং সুর করা। গানটির শিল্পী তিনি নিজেই ছিলেন। এই খান আতাই সর্ব প্রথম এই ছবিতেই নিয়ে আসেন আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। যে গান এখন আমাদের জাতীয় সংগীত।
 এই আবার তোরা মানুষ হ ছবিরই গান——
“এক নদী রক্ত পেরিয়ে
বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা
তোমাদের এই ঋণ কোন দিন শোধ হবে না।
না না না শোধ হবে না।
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাত কোটি মানুষের
জীবনের সন্ধান আনলে যারা
সে দানের মহিমা কোন দিন ম্লান হবে না
না না না ম্লান হবে না।।”
শিল্পীঃ শাহনাজ রহমতুল্লাহ, গীতিকার ও সুরকারঃ খান আতাউর রহমান।
গানটা আজো বাংলাদেশের প্রতিটা জাতীয় দিন গুলিতে বাজানো হয়ে থাকে যা আমরা শ্রদ্ধাভরে শ্রবন করি। আপনি কোন সাহসে সেই মহান সুরকারকে বাঙালীর জাতীর সর্ব শ্রেষ্ঠ ঘৃনিত শব্দ দিয়ে অপমানিত করেন?
আপনি দেশের বাইরে অন্যদেশে বসে এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গালি দিচ্ছেন। আপনি খাঁন আতাকে গালি দিচ্ছেন, রুনা লায়লাকে গালি দিচ্ছেন। যারা এখনো বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে সম্মানিত করে যাচ্ছে। আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বাইরের দেশে বসে যেভাবে দেশকে নাঙ্গা করছেন এখন যদি আপনাকে এই দেশের সাধারন মানুষ বা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সরকার যদি ধরে এনে বিচারের কাতারে দাড় করিয়ে দেয় সেই ক্ষেত্রে আপনি এই দেশের সবাইকেই কি ঐ ভাষাতেই গালি দিবেন?
স্যার—– ২০১৩ সালে গনজাগরনের মঞ্চে আপনার সাথে দেখা হয়েছিল, দেখা হয়েছিল পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত নাগরিক ফোরামের মঞ্চে, দেখা হয়েছিল ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির মঞ্চে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ড, মুন্তাসির মামুন স্যার, শাহরিয়ার কবির, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সহ অনেকেই। সেদিন আপনার প্রতি শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলাম। সম্মধনটাও স্যার বলেই করেছিলাম। কারন তার কিছুদিন আগেই আপনার গেরিলা মুভিটা দেখেছিলাম। যেই শ্রদ্ধার জায়গা আজ আপনি এক নিমিশেই হারালেন।
স্যার আপনারা মুক্তিযোদ্ধা, যাদেরকে বলে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান। আপনি একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান হয়ে আরেকজন শ্রেষ্ঠকে যেভাবে কটাক্ষ করেছেন তাতে প্রমানিত আপনারো মানুষ হবার ঢের বাকী আছে। যুদ্ধটাকে আপনি একটি সার্টিফিকেট নিয়ে ব্যাবহার করার জন্যই করেছেন। পরের প্রজন্মকে ভাল কিছু দেবার জন্য নয়। মুক্তি যুদ্ধকে ইউজ না করে হৃদয়ে ধারন করুন। তাহলেই বুঝবেন খান আতাউর রহমানরা এদেশের কি। মুক্তি যুদ্ধকে ব্যাবহার করে হয়ত স্টেইজে উঠে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে, তার অপব্যাবহার করে, কোন অজানা বা অজ্ঞাত স্বার্থের জন্য খাঁন আতাউরদের ছোট করে কিছু না বুঝে তালি বাজানো মানুষের প্রশংসা কুড়াতে পারবেন, কিন্তু এই প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ধারক বা বাহক হতে পারবেন না। আপনি হয়ত আরেকটা গেরিলা মুভি বানিয়ে জাতীয় পুরস্কার জিততে পারবেন কিন্তু খান আতা হতে পারবেন না। তাই হয়ত সেই হিংসাতেই এই নোংরা খেলায়া মেতেছেন। ভুলে যাবেন না আপনাদের মত কিছু মুক্তিযোদ্ধাই এখন স্বাধীনতার ৩০ লক্ষ শহীদ নিয়ে মন্তব্য করে।
 আমরা এই প্রজন্ম কিন্তু জয় বাংলা স্লোগান দেই বঙ্গবন্ধুর জন্য। আপনাদের মত ভুঁইফোড় আওয়ামীলীগ ব্যাবহার কারীদের জন্য নয়। যুদ্ধটাকে আপনারা কিছু কোটা প্রথায় আবদ্ধ করে সুবিধা নিচ্ছেন , খাঁন আতা কিন্তু তা করেনি।খান আতাউর ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ছিলেন। তার পুরা পরিবার ছিল এবং এখনো আছে। তবে তারা সুবিধা ভোগ করেনি।বঙ্গবন্ধু যাকে সম্মান দিয়ে গেছেন আপনি তাকে ছোট করা আসলেই পাহাড়ের গায়ে ঢিল ছোড়া।যতদিন বাংলাদেশ থাকবে খান আতাউরের গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম সম্মান দিয়ে যাবে।আর আপনি হয়ত এভাবেই নিজেকে প্রচারের জন্য দেশকে নাঙ্গা করার দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সরি আপনার সন্তানের বয়সি হয়ে এই ভাষায় কথা বলার জন্য। কি করব বলেন—– শিক্ষাটা আপনার থেকেই নিলাম।কারন আপনিও আপনার বাবা সম তুল্য, আপনার বড় ভাই সমতুল্য কাউকে এর থেকেও ভয়াবহ ভাবে অপমান করলেন। তাই আপনার ছড়ানো আলোর পথেই আপনাকে আলোকিত করলাম।
খান আতাউর রহমান নিজেই বলে গেছেন
থাক ওরা পড়ে থাক ইতিহাস নিয়ে
জীবনের দীনতা হীনতা নিয়ে।
তোমাদের কথা রবে সাধারণ মানুষের ভীড়ে
মাঠে মাঠে কিষাণের মুখে
ঘরে ঘরে কিষাণীর বুকে
স্মৃতি বেদনার আঁখি নীড়ে।
আসলেই খান আতাউর রহমান সাধারন মানুষের ভিড়েই রবে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কথাই বার বার বলতে হয় আজ “সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী,
 রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।”
 সত্যি মা মানুষ করতে পারেনি। আমরা মানুষ হইনি। আমরা অমানুষ হয়েই আছি। এভাবেই আমাদের মতো অমানুষ সন্তানদের নিয়ে মাকে চোখের জল ফেলে ফেলে বেঁচে থাকতে হবে। মা আর প্রাণ খুলে হাসতে পারবে না।
Share Button







ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT