Main Menu

প্রবাসী স্বার্থ রক্ষায়  সরকার  বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে – রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসাইন

Bangladesh High Commission Canberra

গত ১৮ই ডিসেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস । অভিবাসী ও তাদের পরিবারের লোকজনের অধিকার রক্ষার জন্যে জাতিসংঘ ২০০০ সালে ১৮ই ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস হিসাবে ঘোষনা দেয় । সেই থেকে বাংলাদেশ এই দিন টিকে যথাযথ মর্যদার সাথে পালন করে আসছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস ২০১৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে গত ১৮ই ডিসেম্বরে অষ্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছিল এক আলোচনা অনুষ্টানের। ক্যানবেরা ও সিডনি থেকে প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও সেই আলোচনা অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ
দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত হার এক্সসিলেন্সি রাব্বা ফাতিমা । অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন অষ্ট্রেলিয়ায় নিযুক্তবাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সিলেন্সি রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসাইন ।

উপস্থিত সকলের জ্ঞাতার্থে তিনি জানান, পৃথিবীর প্রায় ১৫৯ টি দেশে ৯০ লক্ষ বাংলাদেশী রয়েছে । গত অর্থবছরে এসব অভিবাসীদের দেশে প্রেরিত অর্থের পরিমান ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন যা কিনা বাংলাদেশের ন্যাশনাল জি.ডি.পি’র প্রায় ৮ শতাংশ । তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে
এসব প্রবাসী বাংলাদেশীরা গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখে চলেছে । বিপুল সংক্ষক বাংলাদেশী কর্মীদের মঙ্গল নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বাংলাদেশী অভিবাসী ও তাদের পরিবারের লোকজনের অধিকার সংরক্ষন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সহজতর করে বাংলাদেশর বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল কিভাবে বাড়ানো যেতে পারে সে বিষয়ের উপর ক্যানবেরার একুশে রেডিওর পরিচালক এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে সর্বাধিক
প্রচারিত অনলাইন বাংলা পত্রিকা বাংলাকথার বিশেষ প্রতিনিধি ডঃ অজয় কর কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনের সাথে ।সাক্ষাৎকারটি পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো।

blob

ডঃ অজয় করঃ আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আমাদের শ্রোতাদের ও পাঠকদের জন্য কিছু বলার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনঃ বর্তমানে অভিবাসন একটি Global Phenomenon। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ২৪৪ মিলিয়ন এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর হিসেব অনুযায়ী ২০১৪ সালে উন্নয়নশীল বিশ্বে অভিবাসী প্রেরিত রেমিট্যোন্সের পরিমান ছিল
৪৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ২০০০ সালে ১৮ ডিসেম্বরকে “আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনসমূহের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশে এবংবিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহে দিবসটিকে পালিত হচ্ছে। এবারের আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০১৬ এর মূল প্রতিপাদ্য
হচ্ছে “ উন্নয়নের মহাসড়কে অভিবাসীরা সবার আগে”।

Bangladesh High Commission Canberra

বাংলাদেশের জন্য অভিবাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। অভিবাসন একদিকে যেমন ব্যাপক বৈদেশিক কর্মসংস্থান এর সুযোগ সৃষ্টি করেছে অন্যদিকে অভিবাসীদের প্রেরিত অর্থ দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের ১৫৯ টি দেশে প্রায় ৯০ লক্ষ বাংলাদেশী অভিবাসী
রয়েছেন এবং প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৬ থেকে ৭ লক্ষ কর্মী বিদেশ গমন করছেন। বাংলাদেশব্যাংকের তথ্যানুসারে ২০১৫ সালে অভিবাসী কর্মীদের প্রেরিত রেমিট্যেন্সের পরিমান ছিল ১৫.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা কি না আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের ৭.৯%, বৈদেশিক বিনিয়োগের ৯ গুন এবং বাংলাদেশের প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের ৪ গুন। আমি আগেই বলেছি, প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। এই রেমিট্যান্স আামদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, চলতি হিসাবের ঘাটতি হ্রাস এবং সামগ্রিকভাবে সামষ্টিক
অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে। এ সকল বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস বিশেষভাবে তাৎপর্যবহ। এ দিনে আমাদের জাতীয় জীবনে অভিবাসীদের অবদানকে স্মরণ করা তথা অভিবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

ডঃ অজয় করঃ বাংলাদেশের সামনে অভিবাসন সম্পর্কিত সমস্যাগুলি কি বলে আপনি মনে করেন? এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে বর্তমান সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?
কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনঃ আমি মনে করি, আমাদের সামনে অভিবাসন সম্পর্কিত সমস্যা সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, অনিয়মিত/অবৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন, মানব পাঁচার, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতি। দারিদ্র, বেকারত্ব, সচেতনতার অভাব, বিদেশ গমনের প্রতি প্রচন্ড মোহ, মধ্যস্বত্ত্বভোগী এবং দুষ্টু দালাল চক্রের অবৈধ হস্তক্ষেপ প্রভৃতি এ সকল সমস্যার মূল কারণ বলে মনে করি। বাংলাদেশ সরকার অভিবাসন সম্পর্কিত সমস্যাসমূহ নিরসনের লক্ষ্যে
নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় জি টু জি (G to G) প্রক্রিয়ায় কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছে। এ দু দেশে অভিবাসন ব্যয় যথাক্রমে মাত্র ৪০০ এবং ৮০০ মার্কিন ডলার। এছাড়া জর্ডানে মাত্র ১৫০ মার্কিন ডলারে মহিলা কর্মী প্রেরণ
করা হচ্ছে। প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, অনিয়মিত/অবৈধ অভিবাসন এবং মানব পাঁচার রোধ কল্পে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন, ১৯৯৮ সালে স্বাক্ষরিত জাতিসংঘের International Convention on the Protection of the Rights of all Migrant Workers and Members of their Families (UN Convention 1990) ) ২০১১ সালে, অর্থাৎ বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে অনুস্বাক্ষর করা হয়। এছাড়া, বর্তমান সরকারের আমলে “Overseas Employment and Migrant Workers Act, 2013” এবং ‘The Human Trafficking and Deterrence and Suppression Act, 2012″ প্রণীত হয়েছে। এর পাশাপাশি সুষ্ঠ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকল্পে Labour Migration Management Rules, 2016, Recruiting Agents Conduct and License Rules, 201 , Migrant Workers’ Welfare Fund Rules,2016 প্রভৃতি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা সুষ্ঠ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস। এই বিধিমালাসমূহ এখন খসড়াপর্যায়ে রয়েছে এবং খুবই শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে। নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে
সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও এবং গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে Colombo Process, Global Forum on Migration and Development (GFMD), Abu Dhabi Dialogue এবং Budapest Process প্রভৃতি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ প্রসঙ্গে আমরা উল্লেখ করতে পারি যে, এ বছর ১০ ১২ ডিসেম্বর GFMDএর নবম সম্মেলন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সফলভাবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে বিশ্বের ১২৫টি দেশ, ৩৫টি জাতিসংঘ ওআন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের ১০০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১৫টি দেশের মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর মহাপরিচালক এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি। এ সম্মেলণে সুষ্ঠভাবে অভিবাসন উন্নয়নে বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে যা ভবিষ্যতে একটি রোডম্যাপ
প্রণয়নে সহযোগি হবে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত Global Compact on Migration Governance সম্মেলণে সর্বসম্মতভাবে গ্রহীত হয়।

ডঃ অজয় করঃ আগামী ৫ বছরে রেমিট্যোন্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় থাকবে বলে আপনার ধারণা?
কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনঃ বিগত বছরগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের ধারা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, প্রতি বছরই রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিক ভাবে বেড়ে চলছে। যেমন ২০১৩ সালে রেমিট্যান্স এর পরিমান ছিল ১৩.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৪ সালে
বৃদ্ধি পেয়ে ১৪.৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এ দাড়ায় এবং ২০১৫ সালে তা ১৫.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আশার কথা, বর্তমান বছরের নভেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ছিল ১৬.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । সরকারের অভিবাসন বান্ধব নীতি ও বাস্তবমূখী পদক্ষেপের ফলে
আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি। এ প্রসংগে উল্লেখ করতে চাই যে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যার মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন অন্যতম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব National Skill Development Council (NSDC) গঠন করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমানে ২২টি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ কাজ করছে। এ সংক্রান্ত সকল কর্মকান্ড সমন্বয়ের লক্ষ্যে National Skill Development Authority গঠন করা হচ্ছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুারো(বিএমইটি) হতে ৩৮টি ট্রেনিং সেন্টার এ ৪৫ টি ট্রেডে বছরে ৬০,০০০ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আরো ৩৫টি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। যার মাধ্যমে বছরে ১,৫০,০০০ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষিত করা সম্ভব হবে। সরকারি উদ্যোগের
পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্রেনিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে যা আমাদের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগি ভূমিকা পালন করে চলছে।সরকারের ইতিবাচক ও সময়োপযোগী কর্মসূচীর কারণে নারী অভিবাসন এর ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। যেমন ২০০১ সালে যেখানে
মাত্র ৬৫৯ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গমন করেন,তা ২০১০ সালে ২৭,৭০৬ জনে উন্নীত হয় এবং ২০১৬ সালে সরকার প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার নারী কর্মী বিদেশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। নারী অীভবাসন উৎসাহিত ও সহজতর করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষপদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন মহিলা
কর্মীদের জন্য বিনা খরচে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণের ফলে বিদেশগামী কর্মীদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এঁদের বেতন ভাতাও বাড়বে মর্মে আশা করা যায়। এছাড়া, মধ্যপ্রাচের পাশাপাশি উন্নতবিশ্বে নতুন নতুন ট্রেড ভিত্তিক শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ
এর কাজ চলছে। সরকারের এ সকল কর্মসূচী গ্রহণের ফলে আগামী ৫ বছরের বিশ্বব্যাপী একদিকে বাংলাদেশী অভিবাসীদের সংখ্যাবাড়বে অন্যদিকে বিভিন্ন পেশায় অধিকতর দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের ফলে তাঁদের প্রেরিত রেমিট্যান্স ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যায়।

ডঃ অজয় করঃ জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত অভিবাসন বিষয়ে কিছু বলুন। উন্নত বিশ্ব যেভাবে অভিবাসন নীতিতে কঠিন কঠিন নিয়ম পরিবর্তন করচে তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের করণীয় কি?
কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনঃ জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এর কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিবছরই বন্যা, ঝড়, নদীভাঙ্গন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগের মাত্রা বাড়ছে। ফলে, অভ্যন্তরীন এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে অধিকতরও
চাপ সৃষ্টি হচ্ছে ও আগামীতে আরও বাড়বে বলে সহজেই অনুমান করা যায়।যারা প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার তারা অনেকেই অভিবাসন-কে Adaptive Strategy হিসেবে গ্রহণ করছেন।
বাংলাদেশে সরকার জলবায়ু পরিবর্তন কে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ২০০৯ সালে Climate Change Trust Fund (CCTF) গঠন করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১১৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের Bangaldesh Climate Change Resilience Fund গঠন করা হয়েচে যা বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ব্যাংক এর সহায়তায় বাস্তবায়ন করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিবাসন এর বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে অভিবাসন নীতি, জলবায়ু পরিবর্তন নীতি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি সমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীন অভিবাসনের ক্ষেত্রে অভিবাসীগন যাতে শুধুমাত্র মেট্রোপলিটন শহরমুখী না হয়ে অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া বিকল্প চাষাবাদ ও জীবনযাপন পদ্ধতি এর কৌশলও অবলম্বন করা হয়েছে। উদাহরন স্বরুপ বলা যায় যে, লবনাক্ত প্রবন অঞ্চল সমুহে লবনাক্ততা সহনশীল ধান উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনিভাবে খরাপ্রবন অঞ্চলসমুহে খরা সহনশীল ধানের চাষাবাদ করা হচ্ছে। সরকারের সামগ্রিক কৌশল অবলম্বনের ফলে জলবায়ুজনিত অভিবাসনকে সফল্ভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

উন্নত বিশ্বের অভিবাসন নীতি প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিশ্ব জ়ুড়েই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অভিবাসন বিষয়ে প্রতিটি দেশই নিজস্ব নীতিমালা অনুসরন করে। তবে বিগত ২/৩ বছরের অভিবাসন এর চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, শরণার্থী এবং অভিবাসী প্রায় একীভুত হয়ে পড়ছে এবং এউরোপ সহ পৃথীবির বিভিন্ন দেশে শরণার্থীদের প্রতি বিরুপ মণোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া অভিবাসীদের উপরেও পড়ছে বলে আমার বিশ্বাস। যেহেতু বাংলাদেশ সবসময় বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত এবং নিশ্চিত করার চেষ্টা করে আসছে, সেহেতু উন্নত বিশ্বের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে এ দুটো বিষ্যকে মিলিয়ে না ফেলতে। সকলের সম্মিলিত অ আন্তরিক প্ৰচেষ্টা অভিবাসন কে আরও সুশৃঙ্খল, মানবিক, নিরাপদ ও সন্মানজনক করে তোলা সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।

সম্পাদনাঃ আউয়াল খান

Share Button


« (পূর্ববর্তী খবর)



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*



ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT